দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
সিলেটের আকাশে-বাতাসে আজ থেকে প্রায় সাতশত বছর আগে এক পরাধীনতার অন্ধকার ও জুলুমের রাজত্ব ভর করেছিল। মজলুমের চোখের পানি আর ওলীগণের রূহার্নী হুঙ্কার যখন এক হয়ে যায়, তখন তামাম বাতেল শক্তি এক সেকেন্ডে চাক্ষুষ ধুলোয় মিশে যায়। আজ আমরা জানবো হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর কারামত এবং তেনার এক আজানের ঐশ্বরিক ধ্বনিতে অহংকারী রাজা গৌড় গোবিন্দের রাজপ্রাসাদ চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার সেই সত্য ইতিহাস। ইতিহাসের পাতা ও আধ্যাত্মিক জগতের মহাসমুদ্রের এক পরম মিলনমেলা লুকিয়ে আছে এই অলৌকিক কাহিনীর অন্তরালে।
অত্যাচারী গৌড় গোবিন্দ বনাম বোরহান উদ্দিনের আকুতি
তখনকার সময়ে সিলেট অঞ্চল শাসন করতো এক পরম অহংকারী ও বাতেল রাজা গৌড় গোবিন্দ। তার রাজ্যে মুসলমানদের জন্য ধর্ম পালন করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু বোরহান উদ্দিন নামের এক আশেক নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহব্বতে নিজের সন্তানের আকিকা উপলক্ষে একটি গরু কোরবানি করেন। এই অপরাধে জালেম রাজা বোরহান উদ্দিন এর দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে হত্যা করে এবং তার হাত কেটে দেয়। মজলুম বোরহান উদ্দিনের কলব ফাটা আর্তনাদে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরের ইশারায় ৩৬০ আউলিয়ার প্রধান হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইয়েমেন থেকে একশত ভাগ রূহার্নী হেদায়েত নিয়ে বাংলার জমিনে পদার্পণ করেন।
জায়নামাজে চড়ে সুরমা নদী পার হওয়ার সত্য ইতিহাস
রাজা গৌড় গোবিন্দ যখন জানতে পারলেন একদল দরবেশ তেনাকে উৎখাত করতে আসছেন, তখন সে তামাম সুরমা নদীর নৌকাগুলো পুড়িয়ে দেন। হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তেনার তামাম সঙ্গীদের নিয়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে এক পরম হুঙ্কার দিলেন। কোনো নৌকা বা কাঠের তক্তা ছাড়াই, ওলী-আল্লাহগণ তেনাদের পবিত্র জায়নামাজ সুরমা নদীর পানির ওপর বিছিয়ে দিলেন। তামাম কায়েনাতকে অবাক করে দিয়ে, সেই জায়নামাজ রকেটের গতিতে পানির ওপর দিয়ে ৩৬০ জন আউলিয়াকে নিয়ে রাজকীয় সাজে নদী পার হয়ে ওপারে পৌঁছে গেল! জালেম রাজার তামাম সৈন্যদল পাহাড়ের ওপর থেকে এই অলৌকিক দৃশ্য দেখে ভয়ে কাঁপতে শুরু করলো।
আল্লাহু আকবার ধ্বনির অলৌকিক মহিমা: ধুলোয় মিশে গেল অহংকারী রাজার রাজপ্রাসাদ
হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি আজান দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই আজান কোনো সাধারণ মানুষের কণ্ঠের আওয়াজ ছিল না, এই আজান ছিল ইশকে এলাহীর এক নূরানি বজ্রপাত। আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে আজান শুরু করা মাত্রই অহংকারী রাজা গৌড় গোবিন্দের সাত তলা রাজপ্রাসাদ এক সেকেন্ডের মধ্যে থরথর করে কাঁপতে লাগলো! আজানের নূরানি কম্পন সহ্য করতে না পেরে, অহংকারী রাজার তামাম রাজপ্রাসাদ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে গেল। বাতেল রাজা অহংকার বিসর্জন দিয়ে এক কাপড়ে জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো এবং সিলেটের জমিনে চিরতরে ইসলামের পতাকা উত্তোলিত হলো।
উপসংহার: ওলীগণের জিন্দা আধ্যাত্মিক শক্তির মহিমা
পরিশেষে বলা যায়, হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর কারামত কেবল কোনো কল্পকাহিনী নয়, বরং তা ঈমানদারের ইমানী শক্তি ও আল্লাহর কুদরতের এক জীবন্ত দলিল। ওলী-আল্লাহগণ তেনাদের সিনা-বসিনা আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে প্রতিটি যুগে বাতেলকে ধুয়ে সাফ করে সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর উসিলায় ঈমানের ওপর অটল থাকার এবং অন্তরের ভেতরের অহংকার ও বাতেলকে চূর্ণ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।










