দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানুষের জীবনে এমন সময় আসে যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হয়। দুঃখ, কষ্ট, বিপদ ও অভাব মানুষকে ভেঙে দেয়। তখন হৃদয় এমন এক আশ্রয় খোঁজে যেখানে শান্তি ও ভরসা পাওয়া যায়।
আল্লাহ তাআলার প্রিয় ওলী আউলিয়াগণ যুগে যুগে মানবজাতির জন্য আশার আলো হয়ে এসেছেন। তাঁদের দোয়া, বাণী ও উপদেশ মানুষের হৃদয়ে সাহস, শান্তি ও ঈমানের শক্তি জাগিয়ে তোলে। ইসলামী ইতিহাসে গাউসে পাকের ওসীলা সম্পর্কিত অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায়, যা মুমিনের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভরসা ও আস্থা আরও দৃঢ় করে তোলে।
গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর বাণী
শায়খ আবুল হাসান আলী খাব্বার বর্ণনা করেন, তিনি শায়খ আবুল কাসিম উমর বাযার-কে বলতে শুনেছেন যে, হযরত গাউসুল আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরশাদ করতেন-
“যে ব্যক্তি বিপদের সময় আমার ওসীলা নিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে, তার বিপদ দূর হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি বিপদের সময় আমার নাম নিয়ে আহ্বান করবে, তার বিপদের ঝড় থেমে যাবে। আর যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট নিয়মে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার অভাব পূরণ করবেন।”
এই বাণী আমাদের শেখায় যে, আল্লাহর উপর ভরসা এবং আল্লাহর বন্ধু ওলী আল্লাহদের ওসীলা গ্রহণ করা ঈমানদারের ঈমানকে শক্তিশালী করে। যুগে যুগে মানুষ গাউসে পাকের ওসীলা গ্রহণ করে আল্লাহর রহমত লাভ করেছে।
বর্ণনায় এসেছে, এই নামাজে প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১১ বার সূরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। সালাম ফিরানোর পর ১১ বার নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে। এরপর ইরাকের দিকে মুখ করে ১১ কদম অগ্রসর হয়ে আল্লাহর দরবারে নিজের প্রয়োজন ও মনের আশা পেশ করতে হবে। আল্লাহ তাআলার হুকুমে তার প্রয়োজন পূরণ হবে।
গাউসে পাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর রচিত শে’র
কতেক বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত গাউসুল আযম রহমাতুল্লাহি আলাইহির রচিত নিম্নোক্ত দুটি শে’র পড়াও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
“আমার উপর জুলুম কীভাবে হতে পারে, যখন আপনি আমার রক্ষক?
যখন আপনি আমার সাহায্যকারী, তবে পৃথিবীতে আমার উপর জুলুম হবে কেন?”
আরও বলা হয়েছে-
“চারণভূমির রক্ষকের জন্য সেই উটের হারিয়ে যাওয়া লজ্জার কারণ, যে পথ ভুলে গেছে।”
এই শে’র আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল ও ভরসার গভীর শিক্ষা প্রদান করে।
গাউসেপাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর ওসীলার ফজিলত
এই আমলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো- ঈমানদার কখনো হতাশ হয় না। বিপদ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বড়।
গাউসে পাকের ওসীলা মানুষের হৃদয়ে আশা, সাহস ও আধ্যাত্মিক শক্তি সৃষ্টি করে। এটি ঈমানদারকে আল্লাহর প্রতি আরও নিবেদিত করে তোলে।
এই আমল আমাদের শেখায়-
- বিপদের সময় আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা
- আন্তরিক দোয়া ও ইখলাসের গুরুত্ব
- আল্লাহর ওলীদের প্রতি ভালোবাসা ঈমানকে শক্তিশালী করে
- আল্লাহ চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেন
গাউসেপাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর ওসীলার
শিক্ষা
• গাউসে পাকের ওসীলা মানুষের হৃদয়ে ভরসা জাগায়
• ওলীদের দোয়া ঈমানদারের ঈমানকে শক্তিশালী করে
• বিপদে আল্লাহর ওলী আউলিয়া দিকে ফিরে যাওয়া ঈমানদারের পরিচয়
• আল্লাহর ওলী আউলিয়াগণের দরবার সর্বদা উন্মুক্ত থাকে। সেখানে গেলে মানুষের অনেক সমস্যার সমাধান হয়।
পরিশেষে
গাউসে পাকের ওসীলা সম্পর্কিত এই বর্ণনা আমাদের শেখায় যে, দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ ও অভাবের সময় একজন ঈমানদারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আল্লাহর ওলী আউলিয়াগণের প্রতি পূর্ণ ভরসা রাখা। কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বন্ধুদের এমন উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন যে, তাঁদের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের জীবন পরিবর্তিত হয়েছে।
তাই আমাদের উচিত আল্লাহর ওলীদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান রাখা, তাঁদের শিক্ষাকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করা এবং আন্তরিকভাবে তাঁদের ওসীলা অবলম্বন করা। কারণ আল্লাহর রহমতের দরজা কখনোই বন্ধ হয় না।










