দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
ইসলামিক দর্শনে লোকমান হাকিম এমন এক জ্ঞানী ব্যক্তিত্ব, যাঁর অমর প্রজ্ঞা পবিত্র কুরআনের ‘সূরা লোকমান’-এ সংরক্ষিত হয়েছে লোকমান হাকিমের নসিহত কেবল তাঁর পুত্রের জন্য ছিল না, বরং তা কিয়ামত পর্যন্ত আসা তামাম মানবজাতির জন্য আধ্যাত্মিক পাথেয়। আজ আমরা জানবো কণ্ঠস্বরের মাধুর্য এবং বিনম্র আচরণের গুরুত্ব নিয়ে তাঁর সেই ঐতিহাসিক নসিহত, যেখানে গাধার কর্কশ আওয়াজকে এক বিশেষ রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
লোকমান হাকিমের নসিহত: কণ্ঠস্বর নিচু করার আধ্যাত্মিক রহস্য
পবিত্র কুরআনের সূরা লোকমানের ১৯ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, লোকমান হাকিম তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বলেন “তোমার পদক্ষেপে সংযত হও এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো” এটি কেবল একটি সাধারণ আদব নয়, বরং বিনম্রতা অর্জনের এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা। মানুষ যখন অহংকারের বশবর্তী হয়ে অন্যের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে, তখনই তার কণ্ঠস্বর অহেতুক চড়া ও কর্কশ হয়ে ওঠে।
গাধার কর্কশ স্বর কেন সবচেয়ে নিকৃষ্ট?
লোকমান হাকিম তাঁর নসিহতে আরও বলেন- “নিশ্চয়ই সকল কণ্ঠস্বরের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য বা বিকট হলো গাধার ডাক”। কেন তিনি গাধার স্বরকে নিয়ে একথা বললেন? তাফসিরকারকদের মতে, গাধা যখন ডাকে তখন সে অহেতুক চিৎকার করে যা অন্যের জন্য বিরক্তির কারণ হয়। ঠিক তেমনি, মানুষ যখন উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে কথা বলে বা অহংকারে ফেটে পড়ে, তখন তার সেই আওয়াজ গাধার ডাকের মতোই কদর্য ও বর্জনীয় হয়ে দাঁড়ায়।
বিনম্র আচরণ ও মধ্যম পন্থার মাহাত্ম্য
লোকমান হাকিমের নসিহত আমাদের শেখায় যে, ইবাদত যেমন আল্লাহর জন্য, তেমনি আচার-ব্যবহার ও চলাফেরা হতে হবে মানুষের প্রতি বিনম্র। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তুমি পৃথিবীতে গর্বভরে চলাফেরা করো না, কারণ আল্লাহ কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না। প্রকৃত জ্ঞানী তিনিই, যিনি পৃথিবীতে নম্রভাবে চলেন এবং কথা বলার সময় কণ্ঠস্বরে পরিমিতি বজায় রাখেন।
উপসংহার: জীবনের আয়নায় লোকমান হাকিমের শিক্ষা
পরিশেষে বলা যায়, লোকমান হাকিমের এই নসিহত আমাদের কলবের অন্ধকার দূর করে প্রকৃত মানবিকতা অর্জনে সাহায্য করে। চিৎকার করে বা গায়ের জোরে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা আসলে গাধার স্বভাবের প্রতিফলন। আসুন, আমরা লোকমান হাকিমের নসিহত অনুসরণ করে নিজের কণ্ঠস্বর ও আচরণকে বিনম্র করি এবং নফসের অহংকার মুক্ত হয়ে একটি সুন্দর জীবন গড়ি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।










