দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
নূর নবীজির মোজেজা-তামাম সৃষ্টিজগতের রহমত ও সৃষ্টির কূল-কিনারা যেনার নূরের আলোয় ধন্য, সেই দয়ার সাগর, দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতিটি কদমই ছিল অলৌকিক মহিমায় মোড়ানো। আজ আমরা ইসলামের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে নূর নবীজির মোজেজা: এক পেয়ালা দুধে আসহাবে সুফফার তামাম ক্ষুধার্ত সাহাবীর তৃপ্তি লাভের অলৌকিক ঘটনা সম্পর্কে এমন এক মোহাচ্ছন্ন ও ঈমান জাগানিয়া মোজেজা আলোচনা করব, যা পড়া মাত্রই মারেফাত পিয়াসী আশেকদের কলব এক সেকেন্ডে দরূদ ও সালামের রূহার্নী জযবায় জাগ্রত হতে বাধ্য হবে।
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর তীব্র ক্ষুধা এবং এক পেয়ালা দুধের অলৌকিক ঘটনা
সহিহ বোখারী শরীফ থেকে জানা যায়, একদা হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তীব্র ক্ষুধার তাড়নায় এক্কেবারে কাতর হয়ে পড়েছিলেন। ক্ষুধার প্রচণ্ড যন্ত্রণায় তিনি মদিনার রাস্তায় বসে রইলেন, যদি কোনো সাহাবী তাকে মেহমানদারী করেন। কিন্তু খোদ নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আবু হুরায়রার অন্তরের তামাম পেরেশানি ও ক্ষুধা বুঝে নিলেন।
দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরম মায়ায় তাকে নিজের হুজরা শরীফে ডেকে নিলেন। ওখনে গিয়ে দেখা গেল, এক আনসারী সাহাবী নবীজির দরবারে স্রেফ এক পেয়ালা দুধ উপহার পাঠিয়েছেন। তীব্র ক্ষুধার্ত হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু মনে মনে ভাবলেন, এই এক পেয়ালা দুধে আজ তার দীর্ঘ অনাহারের অবসান ঘটবে। কিন্তু তখনই নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক অলৌকিক হুকুম দিলেন! তিনি বললেন, “হে আবু হুরায়রা, যাও! সুফফার তামাম ক্ষুধার্ত আশেকদের আমার দরবারে ডেকে নিয়ে আসো। নবীজির এই কুদরতি হুকুম শুনে হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সুফফার তামাম আশেককে দয়াল নবীজির দরবারে ডেকে নিয়ে আসলেন।
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাত মোবারকের বরকত এবং অলৌকিক তৃপ্তি!
তামাম সাহাবী যখন গোল হয়ে বসলেন, তখন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেনার কুদরতি ও রূহার্নী হাত মোবারক ওই দুধের পেয়ালার ওপর রাখলেন এবং আবু হুরায়রার হাতে পেয়ালাটি দিয়ে বললেন, “সবাইকে তৃপ্তি সহকারে পান করাও। এক একজন সাহাবী পেয়ালাটি হাতে নিচ্ছিলেন এবং পেট পুরে দুধ পান করছিলেন; কিন্তু অলৌকিকভাবে সেই পেয়ালার দুধ এক জাররা পরিমাণও কমছিল না! এভাবে তামাম ক্ষুধার্ত সাহাবী যখন এক পেয়ালা দুধ থেকে পরম তৃপ্তিতে পেট ভরে পান করে শেষ করলেন, তখন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে পেয়ালাটি নিজের হাতে নিলেন এবং আবু হুরায়রাকে বললেন, “এখন আমি আর তুমি বাকি আছি, এবার তুমি বসে পান করো।” আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু পেট পুরে পান করার পর নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আরও পান করো।” তিনি আবারও পান করলেন। এবং বললেন, “ইয়া রাসুল আল্লাহ” সেই আল্লাহর কসম যাঁর দরবারে আপনি সত্যসহ প্রেরিত হয়েছেন, আমার পেটে আর এক ফোঁটা দুধ ঢোকানোর মতো জায়গা অবশিষ্ট নেই!” তখন তামাম উম্মতের পরম আশ্রয়, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরম তৃপ্তির সাথে শেষ অবশিষ্ট দুধটুকু নিজে পান করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন।
উপসংহার
পরিশেষে, নূর নবীজির মোজেজা: এক পেয়ালা দুধে আসহাবে সুফফার তামাম ক্ষুধার্ত সাহাবীর তৃপ্তি লাভের অলৌকিক ঘটনা- কেবল একটি অলৌকিক কাহিনীর বিবরণী নয়, বরং তা মারেফাতের এক অনন্ত বাতিঘর। নবীজির এই মোজেজা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার তামাম অভাব ও ভয় চূর্ণ করে খোদার ইশকে ফানা হওয়াই বাতেনি মুক্তির একমাত্র চাবিকাঠি। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরের আলোয় আমাদের সবার অন্তরের ঘুমন্ত কলব জাগ্রত হউক এবং আমাদের অন্তরে সত্য, হেদায়েত ও বাতেনি প্রশান্তির নূরানি আলো ছড়িয়ে পড়ুক। আমীন, ছুম্মা আমীন।










