দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
নূর নবীজি ﷺ এর মুজিযা আসমান-জমিন এবং চন্দ্র-সূর্যের ওপর তেনার রূহানী ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ইসলামের ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। প্রকৃতির সাধারণ নিয়মে সূর্য একবার অস্তমিত হলে তা পুনরায় উদিত হওয়া অসম্ভব। কিন্তু নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শান এমন যে, তেনার ইশারায় মহাকাশের গ্রহ-নক্ষত্রও তেনারি অনুগত হয়ে কাজ করে। আজ আমরা নির্ভরযোগ্য হাদিসের আলোকে জানবো আসরের নামাজের সময় নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইশারায় ডুবন্ত সূর্য পুনরায় ফিরে আসার সেই মহাজাগতিক ও অলৌকিক রহস্য আসলে কী।
আসরের নামাজ ও মাওলা আলীর আনুগত্য
খয়বর যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে ‘সাহবাউ’ নামক স্থানে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তেনার মাথা মোবারক মাওলা আলী-এর কোলে রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এই অবস্থায় নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর ওহী নাজিল হচ্ছিল।
মাওলা আলী আসরের নামাজ তখনো আদায় করতে পারেননি। কিন্তু তিনি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘুমের বা ওহী নাজিলের ব্যাঘাত ঘটবে ভেবে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ডাকলেন না। দেখতে দেখতে সূর্য দিগন্তে ডুবে গেল।
নূর নবীজি ﷺ এর সূর্যের দিকে ইশারা
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগ্রত হয়ে যখন দেখলেন সূর্য ডুবে গেছে এবং মাওলা আলীর আসরের নামাজ কাজা হয়ে গেছে, তখন তিনি ডুবন্ত সূর্যের দিকে ইশরা করলেন।
রদ্দুল শামস: ডুবন্ত সূর্যের পুনরায় উদয়
মুহূর্তেই এক অলৌকিক দৃশ্য প্রকাশ পেল। নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম পশ্চিমাকাশে ইশারা করা মাত্রই ডুবে যাওয়া সূর্য পুনরায় আসরের সময়ের স্থানে ফিরে আসলো। প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবীগণ বলেন, সূর্য যখন ফিরে আসছিল, তখন তার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। মাওলা আলী ওয়াক্তমতো আসরের নামাজ আদায় করার পর সূর্য পুনরায় অস্তমিত হলো।
মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা নূর নবীজি ﷺ এর অনুগত
ওলী-আউলিয়াগণের মতে, নূর নবীজি ﷺ এর মুজিযা তথা ডুবন্ত সূর্য ফিরে আসার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রূহানী ইশারার অনুগত। এটি কেবল একটি মহাজাগতিক ঘটনা নয়, বরং এটি আনুগত্য এবং প্রেমের এক পরম পরীক্ষা। মানুষের নফস যখন নবীপ্রেমের গভীরতায় পৌঁছায় তখন প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান তার দয়ার মুখাপেক্ষী হয়।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, নূর নবীজি ﷺ এর মুজিযা তথা ডুবন্ত সূর্য ফিরে আসা বা ‘রদ্দুল শামস’ মুজিযাটি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রূহানী ক্ষমতারই এক অকাট্য দলিল। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, আসমান-জমিন এবং চন্দ্র-সূর্য সবই তেনার ইশারার অনুগত। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মহান মুজিযা থেকে শিক্ষা নিয়ে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি সত্যিকারের আশেক হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।








