দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
মানব হৃদয়ের যে গোপন কথা এখনো প্রকাশ পায়নি, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই অপ্রকাশিত কথাও অবলীলায় বলতে পারেন-যা সাধারণ মানুষের ধারণার বহু ঊর্ধ্বে। আসুন, সেই মহিমান্বিত সত্য সম্পর্কে জানি এবং নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যথাযথভাবে মান্য করি ও ভালোবাসি।
প্রশ্নের আগেই উত্তর দিলেন নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি একদিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে বসা ছিলাম। এই সময়ের মধ্যে এক আনসারী ও ছাকীফ গোত্রের এক ব্যক্তি সেখানে আসল।
তারা ইসলাম গ্রহণ করার পর আরজ করল, “ইয়া রাসুল আল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার নিকট কয়েকটি কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।”
উত্তরে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা যদি সম্মত হও, তবে তোমরা যা জিজ্ঞেস করতে চাও, তা আমি বলে দিচ্ছি।”
তারা অবাক হয়ে আরজ করল, “হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বলুন-আমরা কী জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছি।”
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছ-কাবার জিয়ারত, তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ, সাফা-মারওয়ার সাঈ, আরাফাতে অবস্থান, কংকর নিক্ষেপ এবং কোরবানি করলে কী সাওয়াব পাওয়া যাবে।”
আগন্তকদ্বয় আরজ করিল, “ঐ মহান সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য নবী বানিয়ে পাঠিয়েছেন, আমরা এই সকল কথাই জিজ্ঞেস করিতে চাচ্ছিলাম।”
[সূত্র: মুজামুল কাবীর, ইমাম তাবারানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি]
পরিশেষে
এই হাদিস শরীফ থেকে আমরা জানতে পারলাম, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের অন্তরের কথাও জানেন। তাই তেনার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও আনুগত্যই আমাদের জন্য মুক্তির পথ।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সবাইকে সেই সত্য উপলব্ধি করে ঈমানকে দৃঢ় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।










