দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
“সমস্ত নবী এবং তেনাদের উম্মতের জন্য জান্নাত হারাম- যতক্ষণ না নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তেনার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করেন।” এই হাদীস শরীফ কেবল আখিরাতের একটি ভবিষ্যদ্বাণী নয়- বরং এটি এক মহান ঘোষণা, যা স্পষ্ট করে তুলে ধরে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহিমা এবং তেনার উম্মতের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে কত উচ্চতম ও অতুলনীয়।
দয়াল বাবা জালালী মাওলা এমন এক মহান সত্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা আমাদের সাহায্য করবে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অপার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে। আসুন, সেই আলোয় নিজেদের হৃদয়কে আলোকিত করি।
নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তেনার উম্মতের সম্মানে খুলবে জান্নাতের দরজা
ইন্নাল জান্নাতা হুররিমাত ‘আলাল আম্বিয়ায়ি হত্তা আদখুলাহা, ওয়া হুররিমাত ‘আলাল উমামি হত্তা তাদখুলাহা উম্মাতি।
“নিশ্চয় জান্নাত সকল নবীগণের জন্য হারাম থাকবে- যতক্ষণ না দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে প্রবেশ করেন; এবং সমস্ত নবীগণের উম্মতের জন্য জান্নাত হারাম থাকবে- যতক্ষণ না দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করে।”
এই হাদীসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন-
‘ইন্না’ অর্থ: “নিশ্চয়ই”,
‘জান্নাত’ অর্থ: “বেহেশত”,
‘হুররিমাত’ অর্থ: “হারাম করে দেওয়া”।
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই জান্নাত সকল নবীগণের জন্য হারাম থাকবে- যতক্ষণ না দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে প্রবেশ করেন; এবং সমস্ত নবীগণের উম্মতের জন্য জান্নাত হারাম থাকবে- যতক্ষণ না দয়াল নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করে।
কেয়ামতের ভয়াভয় দৃশ্যপট
দয়াল বাবা জালালী মাওলা বলেন, পৃথিবী হতে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরে সূর্য। অথচ সেই সূর্যের তাপেই আমরা টিকতে পারি না। কিন্তু কাল কেয়ামতের ময়দানে থাকবে ১২টি সূর্যের তাপ। কোনো ফকির লিখছেন সূর্য থাকবে এক বিঘত উপরে, আবার কোনো ফকির লিখছেন সূর্য থাকবে সোয়া হাত উপরে। বাবা জালালী বলেন, সূর্য একটি কিন্তু এর ১২টি মুখ থাকবে, আর এই সূর্য থাকবে আইনুল ইয়াকিন- সুরমার সলা পরিমাণ দূরত্বে।
সূর্য এমন তাপ দেবে, জমিন তামা হয়ে যাবে। সূর্যের তাপে মানুষ কষ্টে অস্থির হয়ে যাবে। কারো ঘাম থাকবে টাখনু পর্যন্ত, কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত, আবার কারো বুকে পর্যন্ত। কেউ কেউ ঘামের সাগরে সাঁতার কাটবে। যার ইমান যতটুকু, ততটুকু পর্যন্ত ঘাম জমবে তার চারপাশে। সেই ঘামের দুর্গন্ধ এত প্রবল হবে যে ৫০০ বছরের দূর থেকেও ঘামের গন্ধ ভেসে আসবে। সূর্যের তাপে মানুষের মাথা থেকে “ভক ভক” শব্দ শোনা যাবে।
পাঁচ জন উলুল আযম নবীগণের আবেদন
আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত বেহেশতে কদম দেবার আগে- এই ভয়াবহ অবস্থায় পাঁচজন উলুল আযম নবী-
- হযরত আদম আলাইহিস সালাম,
- হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম,
- হযরত নূহ আলাইহিস সালাম,
- হযরত মূসা আলাইহিস সালাম,
- হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম-
পরামর্শ করে আল্লাহর দরবারে যাবেন।
আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন-
“বন্ধুগণ! কেন এসেছেন?”
তেনারা বলবেন-
“মাবুদ! যদিও আমরা তোমার আরশের নিচে আছি সত্য, কিন্তু গরমের জ্বালা সহ্য করতে পারছি না। তোমার যদি কিছু করার থাকে, করো। আমরা আর হাশরের ময়দানে থাকতে পারছি না। আমাদের বেহেশতে পাঠিয়ে দাও।”
আল্লাহ তখন মুচকি হেসে বলবেন-
“ছেলে-মেয়েদের নেবেন না?” (উম্মতদের)
তেনারা বলবেন-
“না, আমরা উম্মত ছাড়া যেতে চাই।”
কেন আল্লাহর হাতের লেখা চিঠি ফেলে দিবেন ফেরেশতা রিদওয়ান
আল্লাহ তখন একটি সবুজ কাগজে লাল কালি দিয়ে চিঠি লিখে দেবেন (লাল কালি হলো জাতীয় কালি)। জান্নাতের ভেতরে থাকবে বিভিন্ন শ্রেণি: ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড ক্লাস, থার্ড ক্লাস। ‘মেওয়া’ হল থার্ড ক্লাসের বেহেশত। এই জান্নাতের দরজার পাহারাদার হলেন ফেরেশতা রিদওয়ান। পাঁচজন নবী মিলে ‘মেওয়া’ বেহেশতের গেটের কাছে আসবেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর লেখা চিঠি ফেরেশতা রিদওয়ান এর হাতে দিবেন। কিন্তু রিদওয়ান ফেরেশতা চিঠি পড়েই ফেলে দেবেন।
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম রেগে বলবেন-
“বেত্তমিজ! আল্লাহর লেখা চিঠি ছিঁড়ে ফেললি কেন?
রিদওয়ান ফেরেশতা বলবেন-
“হে মূসা! রাগ হইওনা এটা আজরাইলকে থাপড় দেওয়া নয়।”
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বলবেন-
“মাগো! আমি কবে আজরাইলকে থাপড় দিয়েছি? আর সে জানলো কীভাবে?”
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম থমকে গিয়ে আল্লাহর লেখা চিঠি তুলে নেবেন, চুমু দিয়ে বুকে রাখবেন। বলবেন-
“হে রিদওয়ান এই চিঠি ফেললি কেন? এটা তো আল্লাহর লেখা!”
নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সিল ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ নিষেধ
রিদওয়ান ফেরেশতা বলবেন-
“হে মূসা! যদি তোমার আল্লাহর জান্নাত থাকে, তবে সেখানে চলে যাও। কিন্তু আল্লাহ যে লাল কালি দিয়ে সবুজ কাগজে এই চিঠি লিখেছেন, সেখানে যদি নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সবুজ সিল না থাকে- তাহলে আল্লাহকেও জান্নাতে প্রবেশ করতে দেবো না।”
এ কথা শুনে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বলবেন-
ফেরেশতা বলে কি, তিনি দৌড়ে যাবেন আল্লাহর দরবারে।
আল্লাহ বলবেন-
“বন্ধগণ আসলেন কেন?”
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বলবেন –
“আল্লাহ! আপনার ফেরেশতা বলছে, আপনাকেও নাকি বেহেশতে প্রবেশ করতে দেবে না!”
আল্লাহ বলবেন-
“কেন, কী হয়েছে?”
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বলবেন-
“আপনার দস্তখতের নিচে যদি আপনার মদিনার কামলিওয়ালা বন্ধুর সিল না থাকে, সে বেহেশতে প্রবেশ করতে দেবে না।”
জান্নাতের প্রকৃত মালিক কে?
আল্লাহ বলবেন-
“সদাকতা- সে সত্য বলেছে।
ইন্না আ‘তাইনাকা আল-কাওসার- আয় ‘খায়রে কাসির’ (খায়রান কাসিরান)।
আমি খোদা, আমার জাতের কসম খেয়ে বলছি- আমি কল্যাণকর যত জিনিস সৃষ্টি করেছি, সবকিছু আমি হেবা করে দিয়েছি আমার বন্ধু মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নূরানী কদমে।
এবং যতক্ষণ না আমার বন্ধু এবং তেনার উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, ততক্ষণ বেহেশত সমস্ত নবী এবং তেনাদের উম্মতের জন্য হারাম।”
পরিশেষে
দয়াল বাবা জালালী মাওলা এই হাদীস শরীফের মাধ্যমে নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তেনার উম্মতের মর্যাদা আল্লাহর দরবারে কত মহান, কত অসীম। এই উপলব্ধি আমাদের মনে করিয়ে দেয়। আমাদের দায়িত্ব হলো নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর দেখানো পথ অনুসরণ করা এবং তেনাকে জানের চেয়েও বেশি ভালোবাসা। কারণ, নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মত হওয়া নিঃসন্দেহে এক বিরাট সৌভাগ্য ও পরম নিয়ামত।










