দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।
বাবা ভান্ডারীর কারামত কেবল অতীত ইতিহাসের কোনো অলৌকিক কিসসা নয়, বরং এটি সমসাময়িক ফিতনা ও উগ্রবাদের মুখে সাচ্চা আশেকদের জন্য এক পরম বাতেনি আশ্রয় এবং ওলী-আল্লাহগণের জ্যান্ত রূহার্নী সুরক্ষার এক অকাট্য দলিল। সৃষ্টির আদি থেকে হকের আলো যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি বাতিলের অন্ধকারও তাকে নেভানোর অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু দয়াল মাওলার প্রিয় মাহবুব বা ওলী-আউলিয়াগণ যখন কাউকে নিজের কুদরতি চাদরে আগলে নেন, তখন দুনিয়ার কোনো বাহ্যিক শক্তি তার ক্ষতি করতে পারে না। “আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা হুজুর গাউসুল আজম সৈয়দ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী-এর রূহার্নী নেগাহবানি ও অলৌকিক কারামতের এক জীবন্ত ঘটনা উন্মোচন করব।” যা বেতারশিল্পী মলকুতুর রহমানের জীবনে চাক্ষুষ ঘটেছিল। একই সাথে আমরা আলোচনা করব কীভাবে এই ঘটনাটি ওলী-আল্লাহগণের শান ও বাতেনি হেফাজতের এক জীবন্ত প্রমাণ।
ওলী-আল্লাহগণের শান ও বাতেনি হেফাজতের কুরআনি সত্যতা
মাইজভাণ্ডারী তরিকার মূল ভিত্তিই হলো প্রেম ও আত্মশুদ্ধি। ওলী-আল্লাহগণ যখন কোনো ভক্তের অন্তরের মহব্বত কবুল করেন, তখন তাঁরা তাঁর জীবনের ছায়া হয়ে যান। এই বাতেনি সুরক্ষাকে উগ্রবাদী বা ধর্মান্ধ গোষ্ঠী কেবল লৌকিক মনে করলেও পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে এর ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত।
কুরআন মজীদের অকাট্য ঘোষণা
মহান আল্লাহ তাআলা ওলী-আল্লাহদের শান ও মান এবং তাঁদের অভয় দিয়ে পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ইরশাদ করেছেন:
“শুনে নাও! নিশ্চয় আল্লাহর ওলীগণের না কোনো ভয় আছে, না কোনো দুঃখ। তাঁরা হলেন সেই সব লোক, যারা ঈমান এনেছে এবং খোদাভীতি (তাকওয়া) অবলম্বন করে।” – (সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬২-৬৩)
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর ওলীদের যেমন কোনো ভয় নেই, তেমনি তাঁদের চরণে আশ্রয় নেওয়া খাঁটি আশেকদেরও কোনো ভয় নেই। বাবা ভান্ডারীর কারামত-এর এই অলৌকিক ঘটনাটি এই আয়াতেরই এক বাস্তব প্রতিফলন।
বাবা ভান্ডারীর করুণায় দায়রা ঘর নির্মাণ ও রূহার্নী পরিবেশ
ঘটনার সূত্রপাত বেতারশিল্পী মলকুতুর রহমানের এক প্রতিবেশীর ঘর থেকে, যিনি ছিলেন মাইজভাণ্ডারী দর্শনের এক পরম সাচ্চা আশেক। তিনি নিজ বাড়িতে একটি পবিত্র ‘দায়রা ঘর’ নির্মাণ করেন। সুফি পরিভাষায় ‘দায়রা’ বলতে কেবল ইট-পাথরের কোনো সাধারণ ঘরকে বোঝায় না, বরং এটি হলো আশেকদের কলব বা হৃদয় জ্যান্ত করার পাঠশালা, যেখানে জিকির, মোরাকাবা, মিলাদ মাহফিল এবং সেমা মাহফিলের মাধ্যমে রূহার্নী সাধনা করা হয়।
দায়রা ঘরের শুভ উদ্বোধনী দিনে মলকুতুর রহমানসহ বারো জন আশেক একত্রিত হয়ে মিলাদ শরীফ ও সেমা মাহফিলের আয়োজন করেন। পুরো দায়রা ঘরটি তখন ওলী-আল্লাহদের রূহার্নী জ্যোতি ও বাবা ভান্ডারীর কারামত-এর এক অপার করুণায় নূরে নূরান্বিত হয়ে উঠেছিল। আশেকদের কলব তখন দয়াল মাওলার জিকিরে জ্যান্ত হচ্ছিল।
উগ্রবাদীদের তাণ্ডব ও আধ্যাত্মিক সংকটের বাস্তবতা
রাত যখন আনুমানিক ১১টা, তখন সেই শান্ত ও রূহার্নী পরিবেশকে ছিন্নভিন্ন করে একদল উগ্র ধর্মান্ধ মানুষ দায়রা ঘরে আকস্মিক হানা দেয়। স্থানীয় কিছু সংকীর্ণমনা ও গোঁড়া মৌলভীর উসকানিতে প্রায় ৬০ জনের এক বিশাল উগ্রচক্র লাঠিসোঁটা নিয়ে দায়রা ঘরে ঢুকে পড়ে। তাদের মূল লক্ষ্যই ছিল দয়াল বাবা ভান্ডারীর এই মরমী প্রেমের আলো নেভানো এবং দরবারে থাকা আশেকদের ওপর নির্মম নির্যাতন করা। তারা ভেতরে ঢুকেই সরাসরি বেতারশিল্পী মলকুতুর রহমানের ওপর বর্বর আক্রমণ চালায়। এক উগ্রবাদী লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করলে মুহূর্তের মধ্যে মাথা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। চারপাশে তখন হাহাকার, আতঙ্ক আর উগ্রবাদীদের তাণ্ডব। মলকুতুর রহমান যখন আত্মরক্ষার জন্য পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই আধ্যাত্মিক জগতের এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে।
বাবা ভান্ডারীর গায়েবী আহ্বান: “বাচ্চা, মাত হটো”
যখন মানুষ বাহ্যিক সব আশ্রয় হারিয়ে ফেলে, তখনই ওলী-আল্লাহদের বাতেনি নেগাহবানি চাক্ষুষ প্রকাশ পায়। মলকুতুর রহমান যখন পালানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন হঠাৎ তাঁর অন্তরে এবং চারপাশে এক অলৌকিক গায়েবী কণ্ঠ ভেসে আসে— “বাচ্চা, মাত হটো!” (বাছা, পিছিয়ে যেও না)। এই পবিত্র রূহার্নী আহ্বান অন্য কারো নয়, স্বয়ং দয়াল বাবা ভান্ডারীর রূহার্নী ডাক ছিল।
এই একটিমাত্র গায়েবী আহ্বান আকাশ ছুঁয়ে মলকুতুর রহমানের ব্যাকুল হৃদয়কে এক সেকেন্ডে শান্ত ও নিথর করে দেয়। এক অদৃশ্য কুদরতি শক্তি যেন তাঁর পা দুটোকে মাটির সাথে স্থির করে দেয়। তাঁর ভেতর থেকে সমস্ত ভয় ও আতঙ্ক দূর হয়ে যায় এবং তিনি হকের ওপর অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
অলৌকিক প্রতিরক্ষা ও বাতিলের চূড়ান্ত পরাজয়
উগ্রবাদীরা তখন চিৎকার করতে থাকে, “মার! মলকুতকে জোরে মার!” তারা একের পর এক লাঠি ও অস্ত্র দিয়ে মলকুতুর রহমানের ওপর আঘাত করতে থাকে। কিন্তু এই পর্যায়ে বাবা ভান্ডারীর কারামত ও অলৌকিক প্রতিরক্ষা চাক্ষুষ রূপ নেয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ৬০ জন উগ্রবাদী অনবরত আঘাত করা সত্ত্বেও একটি লাঠির আঘাতও তাঁর গায়ে লাগেনি।
বরং এক বাতেনি কুদরতি ইশারায় হামলাকারীদের মধ্য থেকেই কয়েকজন হঠাৎ কোনো আঘাত ছাড়াই মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে, তাদের নিজেদের মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। হকের নূরের সামনে বাতিলের অন্ধকার টিকতে না পেরে উগ্রবাদীদের মনে এক তীব্র অলৌকিক ভয় চেপে বসে। তারা তাদের আহত সঙ্গীদের নিয়ে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাখনেওয়ালার চেয়ে মারনেওয়ালা বড় নয়- এই পরম সত্যটি কারামতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।
কামেল মুর্শিদের সোহবত ও ওলীদের শান
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, বাবা ভান্ডারীর কারামত – উগ্রবাদীদের হামলা ও অলৌকিক প্রতিরক্ষা কেবল মলকুতুর রহমানের একক অভিজ্ঞতা নয়, এটি যুগে যুগে ওলী-আউলিয়াগণের সত্যতার এক জীবন্ত দলিল। উগ্রবাদ এবং ধর্মান্ধতা সবসময়ই প্রেমের এই মরমী ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছে, কিন্তু ওলী-আল্লাহদের রূহার্নী শক্তির সামনে সব ষড়যন্ত্র সবসময় ধুলোয় মিশে গেছে। আসুন, আমরা কামেল মুর্শিদের চরণে নিজেদের সঁপে দিই এবং ওলী-আউলিয়াদের বাতেনি সুরক্ষায় নিজেদের ঈমানকে জ্যান্ত রাখি।










