বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর কারামত: বারো বছর আগে ডুবে যাওয়া বরযাত্রীসহ নৌকা উদ্ধারের সত্য ঘটনা।

ওলীকুল সম্রাট গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর বাতেনি তাওয়াজ্জুহে দজলা নদীতে বারো বছর আগে ডুবে যাওয়া বরযাত্রীর নৌকা জ্যান্ত উদ্ধারের ঘটনাটি এক অকাট্য সত্য। আল্লাহর এই মহান ওলীর জ্যান্ত কারামত ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বিস্ময়কর ইতিহাস জানুন।

August 11, 2026 5:08 PM
বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর কারামত বারো বছর আগে ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার
---Advertisement---

দয়াল নবী আপনার দরবারে আমি গোলাম হাজির হইয়াছি।

বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী হলেন রাব্বুল আলামীনের দরবারের এমন এক অনন্য কুদরত, যাঁর কদমের নিচে পৃথিবীর সমস্ত ওলী-আউলিয়ার ঘাড় সদা অবনত। আধ্যাত্মিক জগতের এই মহান অধিপতি গাউসুল আজম মহিউদ্দিন হযরত আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর পবিত্র জিন্দেগী ছিল ইসলামের বাতেনি শক্তি এবং তাসাউফ শাস্ত্রের এক জীবন্ত দুর্গ। সুফি দর্শন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের খাঁটি আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহর ওলিদের হাত বা নজর দিয়ে যে অলৌকিক ঘটনাবলি প্রকাশিত হয়, তা মূলত নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নবুওয়াতের জ্যান্ত মুজিযারই এক একটি বাতেনি ফয়েজ ও রূহার্নী আলো

ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘বাহজাতুল আসরার’ এবং প্রবীণ সুফি সাধকগণের বর্ণনা পরম্পরার আলোকে, ওলীকুল সম্রাট বড় পীর কর্তৃক দজলা নদীর পাড়ে বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়া এক বৃদ্ধা মাতার বারো বছর আগে ডুবে যাওয়া বরযাত্রীসহ নৌকা অলৌকিকভাবে উদ্ধারের সেই জগতকাঁপানো ও ঈমান জাগানিয়া সত্য ঘটনা আজ গোলাম মোরশেদ জালালী ব্লগের পাঠকদের জন্য সুদীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

গাউসিয়াতের রাজকীয় মাকাম: বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানীর বেলায়েতের মহাসমুদ্র

তরিকত ও তাসাউফের নিগূঢ় রহস্য অনুযায়ী, যখন কোনো ওলি ‘গাউসুল আজম’ বা রূহার্নী জগতের প্রধান অভিভাবকের মাকামে অধিষ্ঠিত হন, তখন মহাবিশ্বের প্রতিটি বাতেনি স্পন্দন তেনার আধ্যাত্মিক আয়নায় পরিষ্কার দৃশ্যমান হয়। বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন বেলায়েতের সেই মহাসমুদ্র, যাঁর অন্তরের চোখ স্থান-কালের সমস্ত জাগতিক দেয়াল ও বিজ্ঞানের সমীকরণ ভেদ করে সৃষ্টির অতীত ও ভবিষ্যৎকে পরম নিখুঁতভাবে অবলোকন করতে পারত।

ওলি-আল্লাহগণের এই বাতেনি দাপট বা আধ্যাত্মিক আধিপত্যকে সুফি পরিভাষায় বলা হয় ‘তছরূফ’ যার অর্থ- অলৌকিক ক্ষমতা বা ঐশ্বরিক প্রভাব। তেনাদের দোয়া বা অন্তরের একটি বাতেনি ইশারা মহান আল্লাহর হুকুমে প্রকৃতির নিয়মকে এক সেকেন্ডে ওলট-পালট করে দিতে পারে। বাগদাদ শরীফের সেই পবিত্র হুজরা মোবারকে বসে তিনি যেভাবে জগতজুড়ে ঈমানদারদের রূহার্নী ইশারা দিতেন, তেনার সেই বেলায়েতের ক্ষমতা কেয়ামত পর্যন্ত নূর নবীজি সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উম্মতের জন্য এক সুশীতল আলোকবর্তিকা হয়ে বিদ্যমান থাকবে

কাদেরীয়া সুফি ধারা ও বুখারী শরীফের হাদিসে কুদসীর বাতেনি সংযোগ

ইসলামের সুমহান আকিদা এবং তাসাউফ শাস্ত্রের সত্যতা প্রমাণের জন্য সুফি সাধকগণ সর্বদা শরীয়তের অকাট্য দলিলের ওপর পরম নির্ভর করে থাকেন। বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর এই অলৌকিক ডুবন্ত কিশতি বা বরযাত্রীর নৌকা ফিরিয়ে আনার ঘটনাটি যে একশত ভাগ সত্য এবং কোরআন-সুন্নাহ সমর্থিত, তার অকাট্য প্রমাণ মিলে সহীহ বুখারী শরীফের কিতাবুর রিকাক অধ্যায়ের সুপ্রসিদ্ধ হাদিসে কুদসীতে।

মহান আল্লাহ তাআলা তেনার কামেল ওলিদের অলৌকিক ক্ষমতা প্রদানের হাকিকত বর্ণনা করে এরশাদ করেন- যখন কোনো বান্দা ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর পরম নৈকট্য ও ভালোবাসা লাভ করে, তখন স্বয়ং রব্বুল আলামীন সেই বান্দার শোনার পবিত্র কান, দেখার নূরানী চোখ, ধরার কুদরতি হাত এবং চলার বাতেনি পা হয়ে যান। এই হাদিসের আধ্যাত্মিক সুবাসই গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর আল্লাহর দেওয়া সেই বিশেষ ক্ষমতাবলে নদীর তলদেশে পচে যাওয়া জড়বস্তু ও মৃত মানুষদের মাঝে এক সেকেন্ডে রূহের সঞ্চার ঘটিয়ে পানির ওপর জ্যান্ত ভাসিয়ে তুলেছিলেন। এটিই হলো বেলায়েতের চরম বা সার্বভৌমত্ব, যা ইসলামের মৌলিক আকিদাকে আরও বেশি জ্যোতির্ময় করে

দজলা নদীর পাড়ে বৃদ্ধা মাতার বুকফাটা আর্তনাদ ও বড় পীরের আগমন

কাদেরীয়া তরিকার নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক  গ্রন্থ ‘বাহজাতুল আসরার’ কিতাবে সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা আছে যে, এক শুভ অপরাহ্নে গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বাগদাদের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক দজলা নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি লক্ষ্য করলেন, নদীর পাড়ে বসে এক বৃদ্ধা মাতা বুকফাটা আর্তনাদে অঝোরে কাঁদছেন। দয়ার সাগর বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সেই বৃদ্ধা মাতার এই পরম করুণ আকুলতা দেখে ব্যথিত হলেন।

দজলা নদীর তীরে বৃদ্ধা মাতার আরজি ও আল্লাহর শাহী দরবারে গাউসুল আজমের জালালী ফরিয়াদ

ওলী-কুলের সম্রাট গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি দজলা নদীর তীর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধা মাতাকে অত্যন্ত করুণ অবস্থায় কাঁদতে দেখলেন। তিনি বৃদ্ধার নিকটবর্তী হয়ে অসীম দয়া ও মমতার সাথে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে মাতা! এই নির্জন নদীর কূলে বসে এভাবে কেন বিলাপ করছেন? আপনার হৃদয়ের সেই সুপ্ত বেদনাটি কী, যা আপনাকে এমন করে কাঁদাচ্ছে? দয়া করে আমাকে বলুন।’
“বৃদ্ধা মাতা অত্যন্ত আক্ষেপ ও নিরাশার স্বরে উত্তর দিলেন, ‘বাবা! আপনাকে এই দুঃখের কথা বলে কোনো লাভ হবে না, আর আমি আপনাকে এই বেদনার কথা বলতেও চাই না। আমার এই ক্ষত অনেক গভীর। দয়ার সাগর বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরম মমতায় আশ্বস্ত করে বললেন, ‘মা! আপনার কলবের গহীনে লুকিয়ে থাকা সেই গোপন কষ্টের কথাটি ব্যক্ত করুন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর রহমতে আমি আপনার এই কঠিন সমস্যার সমাধান করে দেব।’
তখন বৃদ্ধা মহিলা দৃঢ়তার সাথে বললেন, ‘বাবা! আমি আমার এই দীর্ঘ বারো বছরের জমানো দুঃখের কথা কেবল একজনের নিকটই আরজি করব; আর তিনি হলেন গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। আমি জানি, কেবল তিনিই পারেন আমার সমস্যার সমাধান করতে।’
বৃদ্ধা মাতার এই অটল বিশ্বাস ও ভক্তিপূর্ণ কথা শুনে ওলীকুল সম্রাট গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি মুচকি হাসলেন এবং পরম করুণায় বললেন, ‘হে মাতা! আপনি যাঁর নিকট আপনার কলবের ফরিয়াদ পেশ করার জন্য এই নদীর তীরে বসে কাঁদছেন-আমিই সেই আব্দুল কাদের!’
তখন সেই শোকার্ত বৃদ্ধা মাতা গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর নূরানী ও জ্যোতির্ময় চেহারা মোবারকের দিকে তাকিয়ে অন্তরে এক পরম বাতেনি প্রশান্তি লাভ করলেন। তিনি বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে আরজি পেশ করলেন- ‘হে আল্লাহর ওলি! আজ থেকে দীর্ঘ বারো বছর আগে আমার একমাত্র পুত্রের শুভ বিবাহের বরযাত্রীবাহী একটি পালতোলা নৌকা এই দজলা নদীর বুকেই প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের কবলে পড়ে নদীর অতলে বিলীন হয়ে যায়। সেই প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ে আমার পুত্র, পুত্রবধূসহ বংশের সকল স্বজন এই নদীর অতল তলে হারিয়ে গেছে। তাই আজও আমি এই নদীর পাড়ে এসে আমার সেই প্রিয়জনদের স্মরণে আকুল হয়ে রোদন করি।'”
বৃদ্ধা মাতার এই করুণ ও হৃদয়বিদারক আর্তনাদ শুনে গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর বাতেনি হালত সম্পূর্ণ জালালী রূপ ধারণ করল। তেনার নূরানী চোখ মোবারক ঐশ্বরিক প্রেমানলে রক্তিমাভ হয়ে উঠল। তখনি তিনি পরম মাওলার কদমে সিজদাবনত হলেন এবং আহকামুল হাকিমীনের শাহী দরবারে এক অভাবনীয় আধ্যাত্মিক কথোপকথন ও জালালী ফরিয়াদে মগ্ন হলেন।
ওলীকুল সম্রাট আল্লাহর দরবারে পরম মহব্বত ও আদবপূর্ণ আবদারের সুরে ফরিয়াদ করলেন- ‘হে আমার দয়াল মাওলা! হে জগতসমূহের একচ্ছত্র অধিপতি! এই অসহায় বৃদ্ধা মাতার বারো বছরের জমানো তপ্ত অশ্রু আজ আমার বেলায়েতের চাদরকে সিক্ত করে দিয়েছে। তোমার অসীম কুদরতের মহাসমুদ্র হতে এই শোককাতর মায়ের হারিয়ে যাওয়া সন্তান ও বরযাত্রীবাহী সেই নৌকাটি হুবহু পূর্বের ন্যায় জ্যান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া তোমার শাহী দরবারে বিন্দুমাত্র কঠিন কাজ নয়। হে আল্লাহ! তুমি এই ডুবন্ত কাফেলাকে পুনরায় জ্যান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দাও!’
মহাসম্মানিত রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে তখন বাতেনি ইলহাম বা আসমানী ইশারা এলো- ‘হে আমার প্রিয়! সেই বারো বছর আগের পুরাতন বরযাত্রীবাহী নৌকা ও মানুষগুলো তো আজ মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে; জাগতিক নিয়মে তেনাদের ফিরিয়ে আনা তো আর সম্ভব নয়।’ তখন ওলীকুল সম্রাট গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরম মহব্বত ও বেলায়েতের দাপটে আরজি করলেন- ‘হে আমার দয়াল মাবুদ! তুমিই তো তোমার পবিত্র কালামে (সূরা ত্বহা: ৫৫) এরশাদ করেছ: মিনহা খালাকনাকুম ওয়া ফীহা নুঈদু কুম ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা-  অর্থাৎ, এই মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, আবার এই মাটিতেই তোমাদের ফিরিয়ে নেব এবং পুনরায় এই মাটি থেকেই তোমাদের পুনরুত্থিত করব।
বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি পরম আধ্যাত্মিক যুক্তি দিয়ে আরও আরজি করলেন- ‘হে আল্লাহ! তুমি যদি কিয়ামতের কঠিন ময়দানে কোটি কোটি বছর আগে মাটির সাথে মিশে যাওয়া মানুষকে পুনরায় জ্যান্ত করে হাশরের ময়দানে হাজির করতে পার, তবে মাত্র বারো বছরের এই ঘটনা তো তোমার অসীম কুদরতের কাছে অতি সামান্য বিষয়!
ওলীকুল সম্রাট গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর এই জালালী ফরিয়াদ ও বাতেনি আবদার স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের আরশে আজীমে গিয়ে সরাসরি আঘাত করল। মুহূর্তেই আল্লাহর পক্ষ থেকে তেনার কলবে আসমানী ইলহাম অবতীর্ণ হলো- ‘হে আমার প্রিয় আপনি আপনার মস্তক উত্তোলন করুন; আপনার খাতিরে বৃদ্ধার সেই সন্তানকে জীবন দান করে ফেরত দেওয়া হলো।’
কিন্তু দয়ার সাগর বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহর শাহী দরবারে পুনরায় আরজি করলেন- ‘হে আমার পরোয়ারদেগার! কেবল সেই সন্তান নয়, বরং তেনার সাথে থাকা বর-কনে এবং বরযাত্রীর প্রতিটি প্রাণকেও তুমি হুবহু জ্যান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে দাও।’ দয়াল আল্লাহ তেনার এই প্রিয় মাহবুবের আবদারে রাজি হলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তেই চিকিৎসাবিজ্ঞান, জাগতিক সমস্ত আধুনিক থিওরি এবং প্রকৃতির হাজার বছরের কঠোর যান্ত্রিক নিয়মকে পরম বিস্ময়ে স্তব্ধ করে দিয়ে, শান্ত দজলা নদীর বুকে এক প্রলয়ঙ্কারী ও অলৌকিক তোলপাড় সৃষ্টি হলো! দীর্ঘ বারো বছর ধরে নদীর তলদেশে পচে গলে মাটির সাথে মিশে যাওয়া সেই বরযাত্রীবাহী নৌকাটি, স্বয়ং আল্লাহর কুদরতি আদেশে এবং বড় পীর সাহেবের বাতেনি টানে, এক সেকেন্ডের মধ্যে হুবহু অক্ষত, নতুন ও জ্যান্ত অবস্থায় পানির ওপর ভেসে উঠল!”
শুধু তাই নয়, সেই অলৌকিক নৌযানের ভেতরে থাকা বর-কনেসহ প্রতিটি মানুষ এক যুগ আগের সেই বিয়ের রাজকীয় ও সুশোভিত পোশাক পরিহিত অবস্থায় সম্পূর্ণ জীবিত ও অক্ষত দেহে উচ্চস্বরে আনন্দধ্বনি করতে শুরু করল! তেনারা পরস্পরের সাথে পরম উল্লাসে এমনভাবে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছিলেন, যেন তেনারা দীর্ঘ ১২টি বছর নদীর অন্ধকার তলদেশে পচে মরেননি; বরং তাঁরা কোনো এক দিব্য জান্নাতী মেহমানখানায় পরম সুখের বাতেনি সফরে মগ্ন ছিলেন।
দজলা নদীর তীরে দণ্ডায়মান বাগদাদের মানুষ- গাউসুল আজম বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে আল্লাহর সেই অনন্য ও রহস্যময় বাতেনি কথোপকথন এবং এই জ্যান্ত কারামতের ফল স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে পরম বিস্ময় ও ভক্তিতে ওলীকুল সম্রাটের কদমে অবনত হলো।”

বাহজাতুল আসরার’ কিতাবের প্রামাণ্য ইতিহাস ও ওলীদের সত্যতা

কাদেরীয়া সুফি ধারার প্রামাণ্য ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘বাহজাতুল আসরার’-এ এই বিস্ময়কর অলৌকিক ঘটনাটি ওলী-আল্লাহদের স্থান-কাল ভেদ করার বাতেনি আধিপত্যের এক পরম অকাট্য স্তম্ভ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। ওলীকুল সম্রাটের এই জ্যান্ত কারামত ওহাবীদের মনগড়া ও সংকীর্ণ আকিদাকে চাক্ষুষ স্তব্ধ করে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে ওলী-আল্লাহগণের বেলায়েত এক পরম সত্য এবং তেনাদের বাতেনি তাওয়াজ্জুহের ছোঁয়ায় পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া পচনশীল জড়বস্তুও এক সেকেন্ডে রূহের স্পন্দন ফিরে পেতে পারে। এই ঐতিহাসিক সত্যটি কিয়ামত পর্যন্ত এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে রইল। ওলিদের এই রূহার্নী দাপটই বিশ্ববাসীকে চাক্ষুষ জানান দেয় যে- তেনারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ কুদরতি ক্ষমতার অধিকারী হয়েই এই পৃথিবীতে শুভ আগমন করেন।”

পরিশেষে: ঈমানদারের কলবে ঈমানী আলো ও তাজকিয়াতুন নাফসের মহান রূহানি শিক্ষা

পরিশেষে বলা যায়, ওলীকুল সম্রাট বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহির এই জগতকাঁপানো কারামত আমাদের এই পরম শিক্ষাই দেয় যে- আল্লাহর ওলিদের পবিত্র সংস্পর্শে আসলে মানুষের অবাধ্য নফস যেমন প্রশান্ত হয়, তেমনি তেনাদের বাতেনি তাওয়াজ্জুহ বা রূহার্নী নজরের উসিলায় পার্থিব জীবনের সমস্ত জটিল মুসিবত ও হারিয়ে যাওয়া নেয়ামত এক নিমেষে ফিরে পাওয়া সম্ভব।

আজকের এই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও যদি কোনো আশেক খাঁটি মহব্বত, বিশুদ্ধ আকিদা এবং অকৃত্রিম ইশক নিয়ে তেনার বাতেনি ফয়েজ অনুসন্ধান করে, তবে সে কলবের আয়না পরিষ্কার করাসহ তাজকিয়াতুন নাফস অর্জন করতে সক্ষম হবে। আসুন, আমরা ওলী-আউলিয়াগণের প্রতি আন্তরিক মহব্বত ও অটল আস্থা রাখি এবং তেনাদের বাণীর আলোকে নিজের অন্তরকে আল্লাহর নূরে আলোকিত করি; তবেই দুনিয়া ও আখিরাতে পরম বাতেনি প্রশান্তি ও মুক্তি লাভ করা সম্ভব হবে। এটিই একজন ঈমানদারের জীবনের চরম সার্থকতা

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Related Stories

Leave a Comment